মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি : নওগাঁ জেলা পুলিশের স্থাপিত এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরার সহায়তায় স্বর্ণ ছিনতাই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে যশোর থেকে ছিনতাইকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে নওগাঁ শহরের তাজের মোড়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ পালের গতিরোধ করে দুর্বৃত্তরা তার কাছে থাকা আনুমানিক ১৪ ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ও জেলা গোয়েন্দা শাখাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করা হয়।
এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জেলা পুলিশের সদ্য স্থাপিত এআই-সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, বিভিন্ন জেলার তথ্য এবং টোল প্লাজার ডাটা বিশ্লেষণ করে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে গত ৩ আগস্ট থেকে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় যশোরের কোতোয়ালি এলাকা থেকে চক্রের অন্যতম সদস্য ও মাইক্রোবাস চালক মো. জামাল হোসেন ফুলনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত কালো রঙের মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি জানান, চার সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র ঢাকার কল্যাণপুর থেকে নওগাঁগামী শ্যামলী পরিবহনে যাত্রা করা স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ পালকে একটি কালো মাইক্রোবাসে অনুসরণ করে নওগাঁ পর্যন্ত আসে। পরে তাজের মোড়ে সুযোগ বুঝে তার হাতে থাকা ব্যাগ থেকে স্বর্ণ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই শহরজুড়ে তল্লাশি শুরু হলে ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পালিয়ে যায়। এ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত জামাল হোসেন ফুলন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাইকৃত স্বর্ণ উদ্ধারে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।