সৈয়দ মুনিরুল হক নোবেল:
জামালপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলার একাধিক সাংস্কৃতিক কর্মী। জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে পরিচালিত হচ্ছে না—এমন অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
সাংস্কৃতিক কর্মীদের অভিযোগ, জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোস নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না। ফলে শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন, সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজের ক্ষেত্রে ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
এ ছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সরকারি অনুদান বিতরণের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন সাংস্কৃতিক কর্মী। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অনেক শিল্পী ও সংগঠন যথাযথ মূল্যায়ন ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ পাচ্ছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সাংস্কৃতিক কর্মী বলেন, শিল্পকলা একাডেমি জেলার সাংস্কৃতিক চর্চা, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ ও বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা পেতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। এতে নতুন প্রজন্মের শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হচ্ছে।
তাদের আরও অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় না করেই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে জেলার প্রকৃত ও দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণ ও মূল্যায়নের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোসের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে সংযোজন করা হবে।
সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, জামালপুরের রয়েছে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও দীর্ঘদিনের শিল্প-সাহিত্যের চর্চা। জেলা শিল্পকলা একাডেমিকে কেন্দ্র করে সেই ঐতিহ্য আরও বিকশিত হওয়ার কথা। তাই প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম, শিল্পীদের সমান সুযোগ এবং অনুদান বিতরণে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা।