স্টাপ রিপোর্টার
তাজলিমা খাতুন
জামালপুরের ইসলামপুর সরকারি হাসপাতালে দালালের খপ্পরে পড়ে এক প্রসূতির জীবন এখন সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে এবং ভুল বুঝিয়ে সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন করার অভিযোগ উঠেছে এক দালালের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই নারী বর্তমানে ইনফেকশন ও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাসুমা আক্তার নামে এক ভুক্তভোগী নারী জানান, গত এক সপ্তাহ আগে তিনি নরমাল ডেলিভারির জন্য ইসলামপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের নার্সরা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে হাঁটাচলা করলে স্বাভাবিকভাবেই সন্তান প্রসব সম্ভব। কিন্তু এরই মধ্যে মনিরা নামে এক নারী (যাকে স্থানীয়রা দালাল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন) সেখানে উপস্থিত হন এবং নার্সদের সাথে কানে কানে কথা বলেন।
এর কিছুক্ষণ পরই নার্সরা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং রোগীকে জানান যে সেখানে আর ডেলিভারি সম্ভব নয়, দ্রুত 'সিজার' করতে হবে। এরপর দালাল মনিরা রোগীকে ভুল বুঝিয়ে পার্শ্ববর্তী 'যমুনা হাসপাতালে' নিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, যমুনা হাসপাতালে নিয়ে তার সিজার করানো হয় এবং বিভিন্ন ধাপে তার কাছ থেকে প্রায় ২৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় (সিজার বাবদ ১৮ হাজার এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ ৫ হাজার)। অপারেশনের পর থেকেই ওই প্রসূতির সেলাই শুকাচ্ছে না এবং ক্ষতস্থানে মারাত্মক ইনফেকশন দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে যমুনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও দালালের কাছে অভিযোগ করতে গেলে তারা উল্টো মারমুখী আচরণ করেন এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ভুক্তভোগী নারীর দাবি, ওই ক্লিনিকে তার মতো আরও অনেক রোগী ইনফেকশন ও ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন।
সরকারি হাসপাতালে দালালের এমন অবাধ বিচরণ এবং রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে পাচার করার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত মনিরাকে ইসলামপুর হাসপাতালের চিহ্নিত দালাল হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ভুক্তভোগী মাসুমা আক্তার ইসলামপুরবাসীর কাছে বিচার দাবি করেছেন। সেই সাথে যমুনা হাসপাতালের লাইসেন্স এবং চিকিৎসার মান খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। মর্নিং বিডি ডট নিউজ ইসলামপুর, জামালপুর।