
staf reporter
Tazlima khatun
জামালপুর সদর উপজেলার ১৫ নম্বর রশিদপুর ইউনিয়নের চৌরাস্তা সংলগ্ন রামদেব বাড়ি এলাকায় সরকারি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জমিগুলো অনাবাদি পড়ে রয়েছে। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় প্রায় দুইশ কৃষক।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, যুগ যুগ ধরে রামদেব বাড়ির বৈঠাখালী থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত নিচু এলাকার বৃষ্টির পানি ও জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য রশিদপুর চৌরাস্তার উত্তর পাশে সরকারিভাবে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। এই কালভার্টের মাধ্যমেই এলাকার সমস্ত জমির পানি সহজে নিষ্কাশিত হতো। কিন্তু সম্প্রতি কালভার্ট সংলগ্ন জমির মালিক সেখানে পাকা ভবন নির্মাণের সময় কালভার্টের মুখটি প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। এর ফলে চৌরাস্তার পশ্চিম পাশের অংশে পানি আটকে দীর্ঘমেয়াদী জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
জমির কিছু অংশ সাময়িকভাবে শুকিয়ে চাষ করা গেলেও সামান্য বৃষ্টিতেই তা আবার পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকরা জমিগুলো ফেলে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী কৃষক মো. সুমোতুল্লাহ মিয়া বলেন, "পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের উৎপাদিত ফসল ও জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় প্রায় ২০০ কৃষকের স্বাক্ষরসহ জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুফল মেলেনি।"
জমির বর্তমান পরিস্থিতি সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ভবনটির মালিক কালভার্টের অংশটি রেখে দিলেও এর ভেতরে অত্যন্ত সংকীর্ণ একটি পাইপ বা ছোট্ট পথ রেখে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছেন, যা দিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সামান্য পানি বের হতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভবন মালিক রুবেলের সাথে কথা হলে তিনি জানান, পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি সম্পূর্ণ সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, "পানি কোথা দিয়ে বেরোবে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়, এটা সরকার বুঝবে। আমার নিজস্ব জমিতে আমি পানি বের হতে দেবো কি দেবো না সেটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়। সামান্য যেটুকু জায়গা দিয়েছি, সেটাই যথেষ্ট।"
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মুনতাজ হোসেন বলেন, "সমস্যাটি সমাধানের জন্য আমরা স্থানীয়ভাবে ভবনের মালিককে নিয়ে একাধিকবার বসেছি। কিন্তু তিনি কালভার্টের মুখ প্রশস্ত করতে বা পানি চলাচলের বড় কোনো ব্যবস্থা করতে কিছুতেই রাজি হচ্ছেন না।"
স্থানীয় কৃষকদের দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এবং কালভার্টটি উন্মুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
morning bd . news jamal pur