মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন মহল্লায় বৈদ্যুতিক তারসহ বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ির মিটার ও বৈদ্যুতিক সংযোগের তার, এয়ারকন্ডিশনের তার, সাইকেল, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির একাধিক ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে শহরের গোয়ালপাড়া এলাকায় ইয়ামিন ও নাইমের বাড়ি থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। একই এলাকায় আরও কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বর্ণকারপট্টির রমজান আলী মিলনের বাড়িতে কোরবানির ঈদের পর বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়। পুরাতনবাজার এলাকার সাধন কুমার ঘোষের বাড়িতেও চলতি মাসে তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক মাস আগে স্কুল-কলেজ রোড এলাকায় একটি সাইকেল চুরির ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরেরা শুধু বৈদ্যুতিক তার নয়, সুযোগ পেলে বাসাবাড়িতে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মিটারের তার ও এয়ারকন্ডিশনের তার চুরি হওয়ায় অনেক বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন বাসিন্দারা। স্থানীয়দের কেউ কেউ শহরের বিভিন্ন বস্তি এলাকার মাদকাসক্ত কিশোরদের একটি অংশ এসব চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন। তবে কারা প্রকৃতপক্ষে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এদিকে, দুইদিন আগে বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগে চার কিশোরকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই কিশোররা বৈদ্যুতিক তার চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল।
তবে আটক কিশোররা প্রকৃতপক্ষে চুরির সঙ্গে জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সন্দেহভাজনদের পুলিশের কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চুরির ঘটনা বন্ধে শহরে নিয়মিত পুলিশি টহল আরও বাড়ানো, চোরাই মাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং মাদকাসক্ত কিশোরদের নজরদারি ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে চুরির ঘটনাগুলো সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. একরামুল হোসেন বলেন, “ইতোমধ্যে কিছু চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।” স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চুরি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার হলে শহরের বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা কমে আসবে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরবে।