নিজেস্ব প্রতিবেদন,
রাজধানীর দারুস সালাম থানাধীন গৈদারটেক এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এক নৃশংস ও পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গত ১১ মে ২০২৬ বিকেল আনুমানিক৪ টার সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি ও খাদ্যদ্রব্য তৈরির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ‘অপরাধ জগত’ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি শাহিন আলম আশিক এবং তার সহকর্মীরা এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হন।
ঘটনার নৃশংসতা ও অতর্কিত আক্রমণ করা হয়।
এজাহারে বর্ণিত তথ্যমতে, অভিযুক্ত সোহেল (৪০) এর কারখানায় অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য তৈরির চিত্র ধারণ করতে গেলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
সোহেলের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী লাঠিসোটা, লোহার রড এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এটি কেবল একটি সাধারণ মারপিট ছিল না, বরং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
গুরুতর জখম ও হত্যার চেষ্টা করা হয়।
অভিযুক্তদের এই বর্বরোচিত হামলায় সংবাদকর্মীরা মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন
গোলাম মন্ত্রী রিপন,তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে কনুইয়ের হাড় ভাঙা জখম হয়, এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়।
রায়হান মোস্তফা (ক্যামেরাম্যান) অভিযোগে বর্ণিত আসামিরা বড় লোহার হাতা দিয়ে তার মুখে প্রচণ্ড আঘাত করে, যার ফলে তার ডান চোয়ালের নিচের মাড়ির একটি দাঁত ভেঙে যায় এবং মুখমণ্ডল রক্তাক্ত জখম হয়।
সম্পদ লুণ্ঠন ও নগ্ন আস্ফালন,
হামলাকারীরা কেবল শারীরিক নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা সাংবাদিকদের পেশাগত সরঞ্জাম এবং ব্যক্তিগত সম্পদও ছিনিয়ে নিয়েছে। লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে রয়েছে।
১টি পেশাগত ক্যামেরা ও মেমোরি কার্ড।
৩টি মোবাইল ফোনের মেমোরি কার্ড।
ক্যামেরা স্ট্যান্ড, চশমা, ঘড়ি এবং নগদ ১০,২০০/- টাকা।
এই জঘন্য অপরাধের প্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩০৭/৩২৫/৩৮৪/৫০৬/১১৪ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে
(মামলা নং- ০৭/৬৭)। প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (FIR) বিষয়টিকে বে-আইনি জনতাবদ্ধে একত্রিত হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট ও গুরুতর জখম করে, বলপূর্বক অর্থ,মালামাল লুন্ঠন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
একজন সংবাদকর্মীর ওপর এমন নগ্ন হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চরম আঘাত হানে ।
এই ঘটনায় জড়িত মূল হোতা সোহেলসহ সকল অভিযুক্ত আসামিদের কে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, অপরাধীরা পার পেয়ে গেলে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় এই ধরনের অরাজকতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
এ বিষয় দেশের সকল সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।