শাহীন সুলতানা, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল
ডিফেন্স স্টেশনের দুই অর্থবছরের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ২৮৮ টাকা। বকেয়া পরিশোধ না করায় সোমবার এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে কুলিয়ারচর এলাকায় বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে এ অভিযান পরিচালনা করে বিপিডিবির ময়মনসিংহ অঞ্চলের কর্মকর্তারা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি অর্থবছরে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। অপর অর্থবছরে বকেয়া ৮৪ হাজার ৬০৮ টাকা। দুই অর্থবছর মিলিয়ে মোট বকেয়া ২ লাখ ১৯ হাজার ২৮৮ টাকা।
একই অভিযানে একটি ওয়ার্কশপের ৪৮ হাজার ৮১ টাকা, একটি পোল্ট্রি ফার্মের ১ লাখ ৮ হাজার ৫৮১ টাকা এবং দুটি কয়েল ফ্যাক্টরির মোট ৫ লাখ ৭০ হাজার ৯৭৪ টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পাওয়া যায়। এসব প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনা করেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বাণিজ্যিক পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক আতায়োর রহমান ও ময়মনসিংহের উপপরিচালক সত্যজিৎ সরকার।
ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বকেয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা ও বিভিন্ন উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় স্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম কতটা প্রভাবিত হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে বিপিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিনের বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় নিয়ম অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে বিল পরিশোধের বিষয়টি আরও শৃঙ্খলিত হবে।
কুলিয়ারচর আবাসিক প্রকৌশলী মো. তৌহিদুল হাসান বলেন, দীর্ঘদিনের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে।
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মোট বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৪ টাকা।