*কুমিল্লা প্রতিনিধি:*
জাতীয় দৈনিক বাংলার নবকণ্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক সালমা আক্তার আজ ২৬/১০/২০২৬ ইং তারিখে তার চলমান সি.আর দ্রুত বিচার মামলা নং- ৩৭/২৪ এর হাজিরা দিতে কুমিল্লা আদালতে গেলে আদালত চলাকালীন সময়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার উপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে ফাঁস হয়েছে হামলাকারীর একটি কল রেকর্ড, যেখানে তিনি পুলিশকে ভয় না পাওয়ার দম্ভোক্তি করেছেন।
*আদালতেই হামলা:*
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, আজ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালত, কুমিল্লার বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট জনাবা আবিদা সুলতানা মলি এর কোর্ট চলাকালীন সময়ে উক্ত মামলার বিবাদী শাহনাজ আক্তার সুমনা কোনো কারণ ছাড়াই মামলার বাদী সাংবাদিক সালমা আক্তারের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক সালমা আক্তারের অভিযোগ, ঘটনার সময় আদালতে সিসিটিভি ফুটেজ, ওপেন সাক্ষী এবং যে কোর্টে ঘটনা ঘটেছে সেই কোর্টেই আসামির বিরুদ্ধে জি.আর মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও এবং বাদী পক্ষের আইনজীবী আসামির জামিন বাতিলের জন্য পিটিশন দাখিল করার পরেও বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কারাগারে প্রেরণ না করে ছেড়ে দেন।
সালমা আক্তার বলেন, "আমি আদালতে বিচার চাইতে গিয়েছি, সেখানেই ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে আমাকে মেরে রক্তাক্ত করা হলো। আমি ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেছি আসামির বিরুদ্ধে আরও ৩টি ওয়ারেন্ট আছে এবং আপনার কোর্টেই বর্তমান মামলা ব্যতীত আরও একটি জি.আর মামলা চলমান রয়েছে। তারপরও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি, উল্টো আমাকেই শাসিয়েছেন। আমি ঘটনার ভিডিও করেছি কিনা সেজন্য বারবার আমার হাতে থাকা মোবাইল নিয়ে চেক করেছেন। তাহলে আমরা ন্যায়বিচার কোথায় পাবো?"
*"আসামী সুমনা বলেন আমার কোনো ক্ষমতা ছাড়া আমি অ্যারেস্ট হই নাই" - ফাঁস হওয়া কল রেকর্ড:*
এর আগে আসামি শাহনাজ আক্তার সুমনার ৬ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। যেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, "আমার কোনো ক্ষমতা ছাড়া আমি অ্যারেস্ট হই নাই, আমার ছেলেরা এক রাতও পালিয়ে থাকে না। আমি একটা নির্দিষ্ট জায়গায় বসবাস করতেছি। আমার ওয়ারেন্ট সম্পর্কে সবাই জানে।"
এই বক্তব্যের পর স্থানীয়দের প্রশ্ন, আদালতের ওয়ারেন্টের চেয়ে কি আসামির ক্ষমতা বড়? পুলিশ কি তাকে ভয় পায়?
*আসামির বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য ওয়ারেন্ট সমূহ:*
ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, হামলাকারী শাহনাজ আক্তার সুমনার বিরুদ্ধে আরও ৩টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু রয়েছে।
১। মামলা নং- সি.আর ১১৫২/২৫ ইং, দাউদকান্দি, ধারা- ৩৮০/৪৪৫/৫১১/৩৪ দঃবিঃ
২। মামলা নং- সি.আর ৯৮০/২৪ ইং, ধারা- ৩৮০/৪৫৪/৩৪ দঃবিঃ
৩। মামলা নং- জি.আর ৪২০/২৬, কোতয়ালী, ১নং আমলী আদালত কুমিল্লা, ধারা- পর্নোগ্রাফি আইন ৮(১)(২)(৩) দঃবিঃ - এফআইআর এর মামলা চলমান।
ভুক্তভোগী আরও জানান, দীর্ঘ দুই বছর ধরে প্রায় ২২টি ওয়ারেন্ট ৭ বার করে দাউদকান্দি মডেল থানায় পাঠানো হয়েছে, কিন্তু একটি আসামিও গ্রেফতার করা হয়নি। আসামিরা তালতলীতে নিজ বাড়িতে প্রকাশ্যে বসবাস করছে, এমনকি পুলিশের সাথে একই প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছে এমন ডকুমেন্ট তার কাছে আছে।
*মামলার বাদী সালমা বিচার কোথায় পাবো?*
সালমা বলেন, "ওয়ারেন্ট মানে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ। পুলিশের কাজ শুধু আসামি ধরে আদালতে সোপর্দ করা। থানায় যখন মামলা নেয় না, তখন বাধ্য হয়ে আদালতে সি.আর মামলা করি। সেই মামলা পিবিআই, সিআইডি, ডিবি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়, তারপর ওয়ারেন্ট হয়। কিন্তু থানা সেই আদেশ তামিল করে না।"
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ভিডিও ধারণ ও সংবাদ প্রকাশের জেরে তার ৩টি বাসা ভাঙচুর, দাউদকান্দি ঈদগাহ বিশ্বরোডে থাকা ৩টি কাপড়ের দোকান লুট, বোনের বাড়ি, বাবার বাড়ি ও নিজ বাড়িতে হামলা এবং তাকে দুইবার তুলে নিয়ে বিবস্ত্র করে মারধর ও বৃদ্ধা মাকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় থানা মামলা না নেওয়ায় আদালতে মামলা করে ওয়ারেন্ট ইস্যু করানো হয়েছে।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম পলাশের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানানো হয়েছে এবং কুমিল্লার বিজ্ঞ জেলা জজ ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী।