মোঃ ফয়সাল হোসেন কয়রা খুলনা জেলা প্রতিনিধি:-
খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের শেওড়া গ্রাম, পাশ দিয়ে সর্পিল গতিতে বয়ে চলেছে কপোতাক্ষ নদ । এরই তীরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক জমিদারবাড়ি । প্রায় তিনশ বছরের পুরনো স্থাপনাটি পরিচিত কান্তরামের জমিদারবাড়ি নামে ।
অষ্টাদশ শতকের শুরুর দিকে গহীন সুন্দরবন পরিস্কার করে কান্তরাম মন্ডল জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন । প্রায় দুই হাজার বিঘা জমি নিয়ে ছিলো এই জমিদারির ব্যপ্তি ।
সংস্কারের অভাবে বর্তমানে বাড়িটির অবস্থা বেশ জরাজীর্ণ । দুই তলা বিশিষ্ট বাড়িটিতে আছে দশটি কক্ষ । ভাঙন ধরেছে দ্বিতীয় তলার ছাদে । জন্মেছে বিভিন্ন গাছ । বাড়িটির আশেপাশে বসবাস করছেন জমিদারের কয়েকশ বংশধর । এছাড়া একই ইউনিয়নের বামিয়া এবং বাঁশখালী গ্রামে বসবাস করছেন জমিদারের বংশধরেরা ।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাড়িটি ব্যাপকভাবে লুটপাটের শিকার হয় । বাড়ির দেয়ালে অসংখ্য গুলির দাগ এখনো ভয়ঙ্কর সেই স্মৃতিচিহ্ন বহন করে চলেছে ।
বর্তমানে বয়স্কদের মধ্যে জমিদার কান্তরামের একমাত্র নাতি অশ্বিনী মন্ডল বেঁচে আছেন । তার বয়স প্রায় ৯০ বছর । তিনি এই বাড়ির চতুর্থ প্রজন্ম । আমরা কথা বলেছিলাম তার সাথে । বয়সের কারণে স্মৃতিশক্তি কমলেও তিনি একে একে জানিয়েছেন বেশ কিছু তথ্য । প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বাড়িটির দায়িত্ব নিতে চাইলে তার কোনো আপত্তি নেই বলে জানান তিনি ।
এছাড়া জমিদারবাড়ির কয়েকশ বংশধর বিভিন্ন সময়ে স্থায়ীভাবে ভারতে চলে গেছেন । তবে সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো প্রচারের অভাবে আশেপাশের এলাকার মানুষ এই বাড়িটি সম্পর্কে জানে না । মাঝে মাঝে দু একজন দর্শনার্থী বাড়িটি দেখতে আসেন । এই প্রতিবেদকের সাথে বেশ আগ্রহ নিয়ে গিয়েছিলেন বাড়িটি দেখতে । বাড়িটি ঘুরে দেখে বেশ ভালো লেগেছে বলে জানান তারা ।
বেশ প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন কান্তরাম । তৎকালীন সময়ে কপোতাক্ষ নদ ধরে জলদস্যুদের উৎপাত ছিলো লক্ষণীয় । তবে সেসব বেশ ভালোভাবেই দমন করতেন কান্তরাম মন্ডল এবং তার বংশধরেরা ।
প্রায় তিনশ বছরের পুরনো স্থাপনাটি বয়সের ভারে জরাজীর্ণ হলেও, এর প্রতিটা গাথুনিতে লেখা আছে গৌরব আর অমূল্য ইতিহাস । সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হয়তো বাড়িটি টিকে থাকবে আরো কয়েক যুগ । নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে এই বাড়ির ঐতিহাসিক পটভূমি । বেঁচে থাকবে জমিদার কান্তরামের গৌরব গাঁথা ।