মুজাহিদ হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি:
নওগাঁর আত্রাইয়ে ক্লাস চলাকালীন গাইড বই দিয়ে আঘাত করে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী মোছা. তাওসিনের (৯) নাক ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. আকরাম সরদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে আত্রাই উপজেলার ক্ষিদ্র কালিকাপুর দাউদিয়া আলিম মাদ্রাসায়। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তাওসিন ওই মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে ক্লাস চলাকালে শিক্ষক আকরাম সরদার তাকে গাইড বই দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার নাক দিয়ে রক্তপাত হয় এবং নাক ও চোখের সামনের অংশ ফুলে যায়। এর আগেও ওই শিক্ষার্থীকে শিক্ষক মারধর করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাওসিনের মা রাজিয়া সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, মেয়েকে মারধরের ঘটনায় বিচার চেয়ে তার স্বামী রেজাউল ইসলাম ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার স্বজনরা তাদের বাড়িতে হামলা চালান বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় তাদের এক ভাতিজাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রাজিয়া সুলতানা।
তাওসিনের বাবা মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, মেয়েকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করাতে পাঠিয়েছি। সেখানে শিক্ষক যদি তাকে মারধর করেন এবং ঘটনার বিচার চাইতে গিয়ে আমাদেরই হামলার শিকার হতে হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব? আমরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। একই সঙ্গে মেয়েকে মারধর এবং অভিযোগ দেওয়ার পর আমাদের বাড়িতে হামলা ও ভাতিজাকে মারধরের ঘটনাটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আকরাম সরদার ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।